ডিভোর্সের পরিণতি: সমাজ ও শিশুদের উপর প্রভাব
চলুন ডিভোর্স নিয়ে আমাদের করা একটি রিসার্চের তথ্য আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
বেশ কয়েকদিন যাবত আমরা ডিভোর্স নিয়ে কাজ করছি। রিসার্চ পারপাসে।
কেন হচ্ছে? কি কি কারণে হচ্ছে?
এর পরিণতি কতটা ভয়াবহ তা জানতেই আমাদের এই অনুসন্ধান। অনুসন্ধানে এমন ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে যা রীতিমতো আমাদের হতভাক করেছে।
বাংলাদেশে ডিভোর্সের হার ক্রমেই বাড়ছে। এবং এতটাই দ্রুত তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না!
২০২২ সালে দেশে ডিভোর্সের হার ছিল ১.৪%, যা ২০২১ সালে ছিল মাত্র ০.৭%।
ঢাকা শহরে গড়ে প্রতিদিন ৩৭টি ডিভোর্স হয়, যা প্রতি ৪০ মিনিটে ১টি ডিভোর্সের সমান। ভাবা যায়!
আর এক্ষেত্রে নারীরাই বেশি ডিভোর্সের আবেদন করছেন। ৭০% ডিভোর্সের আবেদন আসে স্ত্রীদের কাছ থেকে,
আর ৩০% আসে স্বামীদের কাছ থেকে।
আমাদের রিসার্চে ডিভোর্সের কিছু প্রধানতম কারণ বের হয়ে এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো;
– পরকীয়া (অবৈধ সম্পর্ক): ২৩% ডিভোর্সের কারণ
– যৌন সমস্যা: ২২% ডিভোর্সের কারণ
– গার্হস্থ্য সহিংসতা: ২০% ডিভোর্সের কারণ
- অর্থনৈতিক সমস্যা: ১৫% ডিভোর্সের কারণ
ডিভোর্সের পরিণতি:
ডিভোর্সের পরিনতি যে কতটা ভয়াবহ তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মত না। এটি শুধু স্বামী-স্ত্রী নয়, সন্তান সন্তুতিসহ পুরো পরিবারের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে। সন্তানদের মানসিক সমস্যা ঘটায়। পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। বিপথে যেতে প্রলুব্ধ করে। হালাল সম্পর্কের প্রতিন অনিহা সৃষ্টি হয় – এতে হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে নিজেকে শেষ করে দেয়!
নিঃসন্দেহে ডিভোর্স একটি ব্যাধি,নিচু একটি কাজ। এ থেকে যথাসম্ভব বেচে থাকা চাই। এড়িয়ে চলা চাই।
কীভাবে এড়ানো যায়, তার নিম্নরুপ!
ডিভোর্স এড়ানোর উপায়:
কাউন্সেলিং: সম্পর্কের সমস্যা সমাধানের জন্য কাউন্সেলিং করা যেতে পারে।
যোগাযোগ বাড়ানো: নারী-পুরুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।.
নেতিবাচক ধারণা দূর করা: সমাজে ডিভোর্স নিয়ে নেতিবাচক ধারণা দূর করতে হবে।
মানসিক স্বাস্থ্য: মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং সেবার প্রচার ও প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উদ্যোগ বাড়াতে হবে।
.সম্পর্কের মূল্যায়ন: সম্পর্কের মূল্যায়ন করা এবং সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করা।
সহানুভূতি ও সম্মান: একে অপরের প্রতি সহানুভূতি ও সম্মান দেখানো।
সময় দেওয়া: একসাথে সময় কাটানো এবং সম্পর্ককে শক্তিশালী করা।
সমস্যা সমাধান: সমস্যা সমাধানের জন্য একসাথে কাজ করা এবং সমাধান খুঁজে বের করা।
বিশ্বাস: একে অপরের প্রতি বিশ্বাস রাখা এবং সম্পর্ককে বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা।
.সহায়তা: প্রয়োজনে বন্ধু, পরিবার বা পেশাদার সাহায্য নেওয়া।
আমরা আশা করছি এ কাজগুলো করতে পারলে ডিভোর্সের মত এমন ভয়ংকর ব্যাধিকে আমরা এড়িয়ে চলতে পারব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের জীবনে শান্তি বয়ে আনুক। এবং রহমত দ্বারা প্রবাহিত করুক!

হুমন,বাস্তব